বেশিরভাগ মানুষ শুরু করেন ছাদ দিয়ে। ছাদের দিকে তাকিয়ে আন্দাজ করেন কতগুলো প্যানেল ধরবে, আর সেটাই চান। আমরা অন্য জায়গা থেকে শুরু করতে বলব: আপনার ড্রয়ারে রাখা বিদ্যুৎ বিল থেকে।
বাড়ির সোলার প্ল্যান্টের মাপ ঠিক হওয়া উচিত আপনার পরিবার বছরে কত ইউনিট খরচ করে তা দেখে। সবচেয়ে বেশি খরচের মাস দেখে নয়, ছাদের মাপ দেখে নয়, প্রতিবেশী কী লাগিয়েছেন তা দেখেও নয়। কেউ বিল হাতে আমাদের সেবক রোডের অফিসে এলে আমরা কীভাবে হিসাব করি, তা নিচে দিলাম।
ধাপ 1: আপনার বছরের ইউনিট বের করুন
আপনার WBSEDCL বিলে "units consumed" বা "billed units" লেখাটা খুঁজুন। এখানে অনেক বাড়ির বিল তিন মাসের হয়, তাই সবার আগে বিলিং পিরিয়ডটা দেখে নিন। পারলে শেষ চারটি বিলের ইউনিট যোগ করে পুরো বছরের হিসাব নিন। এই একটা সংখ্যাতেই কাজের বেশিরভাগটা হয়ে যায়।
একটা বিল নয়, পুরো বছর কেন? কারণ বাংলায় বিদ্যুৎ খরচ অনেক ওঠানামা করে। যে পরিবার এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর দুটো এয়ার কন্ডিশনার চালায়, তাদের জুনের খরচ সহজেই জানুয়ারির দ্বিগুণ হতে পারে। জুন ধরে মাপ ঠিক করলে বছরের অর্ধেক সময় সোলার বেশি হয়ে যাবে। জানুয়ারি ধরে করলে গরমের বিল বেশিই থেকে যাবে।
ধাপ 2: এক kW বছরে কত ইউনিট বানায়, তা দিয়ে ভাগ করুন
বাংলার সমতলে আর বিহার সীমান্ত এলাকায় ঠিকঠাক জায়গায় বসানো রুফটপ প্ল্যান্ট সারা বছরের গড়ে প্রতিদিন প্রতি kW-এ মোটামুটি 3.4 থেকে 4 ইউনিট বানায়। প্রথম আন্দাজের জন্য আমরা এর মাঝামাঝি ধরি, অর্থাৎ বছরে প্রতি kW-এ প্রায় 1,350 ইউনিট।
তাই হিসাবটা সহজ: বছরের ইউনিট ÷ 1,350 = kW-এ প্ল্যান্টের মাপ। যে পরিবার বছরে 4,000 ইউনিট খরচ করে, তাদের লাগবে প্রায় 3 kW। যারা 6,750 ইউনিট খরচ করে, তাদের প্রায় 5 kW।
এক নজরে টেবিল
| মাসে গড় ইউনিট | প্রস্তাবিত মাপ |
|---|---|
| 150 | 1.5 kW |
| 250 | 2 kW |
| 350 | 3 kW |
| 500 | 4.5 kW |
| 750 | 6.5 kW |
| 1,000 | 9 kW |
এগুলোকে শুরুর হিসাব হিসেবে ধরুন। সাইট সার্ভেতে জলের ট্যাঙ্ক বা পাশের বাড়ির ছায়া দেখার পর এই সংখ্যা বদলায়, কখনও অনেকটাই।
ধাপ 3: দুটি সীমা মিলিয়ে দেখুন
আপনার স্যাংশনড লোড। পশ্চিমবঙ্গে রুফটপ প্ল্যান্ট আপনার কানেকশনের স্যাংশনড লোডের চেয়ে বড় হতে পারে না। বিলে যদি 3 kW লেখা থাকে আর হিসাবে আসে 5 kW, তাহলে হয় আমরা মাপ কমাই, নয়তো আগে WBSEDCL-এর কাছে স্যাংশনড লোড বাড়ানোর আবেদন করি। এটা সাধারণ আবেদন, তবে সময় লাগে, তাই আগে থেকে জেনে রাখা ভালো।
আপনার ছাদ। প্রতি kW-এর জন্য প্রায় 90 থেকে 100 বর্গফুট ছায়াহীন সমতল ছাদ ধরুন। 3 kW প্ল্যান্টে লাগে 270 থেকে 300 বর্গফুট; 5 kW-এ 450 থেকে 500। জায়গা কম হলে উঁচু স্ট্রাকচার প্যানেলগুলোকে ট্যাঙ্ক আর সিঁড়িঘরের ওপরে তুলে দেয়, ফলে যে জায়গা নষ্ট হত তা কাজে লাগে। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন সোলারের জন্য ছাদে কতটা জায়গা লাগে লেখায়।
নেট মিটারিংয়ে বড় মানেই ভালো নয় কেন
এখানে অনেকেই ভুল করেন। পশ্চিমবঙ্গের নেট মিটারিং নিয়মে আপনার প্ল্যান্ট গ্রিডে যত ইউনিট পাঠায়, তা গ্রিড থেকে নেওয়া ইউনিটের সঙ্গে কাটাকুটি হয়, আর বাকি ক্রেডিট পরের বিলে চলে যায়। কিন্তু প্রতি বছর 1 এপ্রিল এই জমা পুরো শূন্য হয়ে যায়। যা ব্যবহার করেননি তা বাতিল হয়ে যায়, আর তার জন্য কেউ আপনাকে টাকা দেয় না।
তাই যে প্ল্যান্ট বছরে আপনার খরচের চেয়ে বেশি বানায়, তার বাড়তি অংশটা বিনা পয়সায় চলে যায়। বছরের খরচ ধরে মাপ ঠিক করলে প্রতিটি প্যানেল থেকে সেরা লাভ পাওয়া যায়। নিয়মগুলো বিস্তারিত বুঝিয়েছি পশ্চিমবঙ্গে নেট মিটারিং লেখায়।
ভর্তুকির ভূমিকা কোথায়
পিএম সূর্য ঘর প্রকল্পে বাড়ির জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা 3 kW পর্যন্ত বাড়ে, তারপর আর বাড়ে না। আপনি এর বেশি বসাতেই পারেন, অনেক পরিবারের সেটাই করা উচিত, কিন্তু সহায়তা 3 kW-এর স্তরেই আটকে থাকে। এটা পেতে হলে প্যানেল DCR হতে হবে (ভারতীয় সেল দিয়ে তৈরি), আর তাতে বড় বাড়ির হিসাব বদলে যায়। দেখুন DCR না Non-DCR প্যানেল।
যে ভুলগুলো আমরা প্রায়ই দেখি
- গরমের বিল ধরে মাপ ঠিক করা, তারপর সারা শীত জুড়ে ইউনিট গ্রিডে পাঠানো, যা এপ্রিলে বাতিল হয়ে যায়।
- দ্বিতীয় মিটারের কথা ভুলে যাওয়া। নেট মিটারিং প্রতিটি কনজিউমার নম্বর ধরে চলে, তাই একতলার আলাদা মিটারের জন্য আলাদা সিস্টেম লাগবে।
- ছায়াকে গুরুত্ব না দেওয়া। দক্ষিণ দিকে একটা উঁচু গাছ আপনার ধারণার চেয়েও বেশি উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে শীতে, যখন সূর্য নিচু থাকে।
- যে এয়ার কন্ডিশনার এখনও কেনেননি, তার হিসাব ধরে পরিকল্পনা করা। সেটা ধরা যেতেই পারে, তবে আমাদের জানান, যাতে আমরা স্যাংশনড লোড আর ছাদ একসঙ্গে দেখে নিতে পারি।
নিজের সংখ্যা দিয়ে হিসাব করে দেখুন
আমাদের সাইজ ক্যালকুলেটর আপনার ইউনিট বা বিলের টাকা থেকে ওপরের হিসাবটা করে দেয়। নিশ্চিত উত্তরের জন্য শেষ তিনটি বিল আর ছাদের ছবি WhatsApp-এ পাঠান। আমরা প্ল্যান্টের মাপ জানাব, সঙ্গে লিখিতভাবে জানাব কীভাবে সেই হিসাবে পৌঁছলাম।
চটজলদি উত্তর
শিলিগুড়িতে 3BHK বাড়ির জন্য কত kW সোলার লাগবে?
এটা নির্ভর করে বিদ্যুৎ খরচের ওপর, ঘরের সংখ্যার ওপর নয়। মাসে প্রায় 350 ইউনিট খরচ করা একটা 3BHK-তে সাধারণত প্রায় 3 kW লাগে। নিয়মিত দুই-তিনটি এয়ার কন্ডিশনার চললে 5 kW বা তার বেশিও লাগতে পারে।
স্যাংশনড লোডের চেয়ে বেশি সোলার কি বসাতে পারি?
না। পশ্চিমবঙ্গে প্ল্যান্ট আপনার স্যাংশনড লোড বা কন্ট্র্যাক্ট ডিমান্ডের বেশি হতে পারে না। আগে WBSEDCL-এর কাছে লোড বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন।
বাড়ির জন্য 3 kW সোলার কি যথেষ্ট?
মাসে প্রায় 300 ইউনিট খরচ হয় এমন বাড়ির জন্য, হ্যাঁ। বাংলায় একটা 3 kW প্ল্যান্ট গড়ে মাসে মোটামুটি 306 থেকে 360 ইউনিট বানায়।